সামুদ্রিক শাস্ত্র অনুযায়ী হাতের উল্টো পিঠে লুকিয়ে মানুষের ভাগ্য
![]() |
সামুদ্রিক শাস্ত্র |
প্রাচীন পুঁথিপত্রে ঘাটলে এখনও তাদের গবেষণার কিছু কিছু অংশ খুঁজে পাওয়া যায়। সেই সমস্ত টুকরো টুকরো অংশ একসঙ্গ করে আপনাদের সাথে কিছু তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ।
অন্যান্য - এই অঙ্গ গুলো বড়ো থাকলে মেয়েরা হয় সৌভাগ্যবতী
একটা বিষয়ে মনে রাখতে হবে এই সমস্ত তথ্যগ প্রাচীন মুনি-ঋষিরা কয়েক প্রজন্ম ধরে গবেষণা করার পরই প্রকাশ করেছিলেন। কয়েকশো বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপর গবেষণার করার পর তাদের গবেষণা পত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ।
হস্তরেখা শাস্ত্রে যেমন হাতের করতল, হাতের আঙুল, হাতের রেখা, হাতের রং ও নখের বিষয়ে সূক্ষ্ম বিচার করা হয়, ঠিক তেমনই হাতের পিছনের, করপৃষ্ঠের অংশও গভীর ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা হয়। করপৃষ্ঠের আকার-প্রকার বিচার করে মানুষের ক্ষমতা, যোগ্যতা, স্বভাব, দোষ/গুণ, সম্বন্ধে জানা যায় । সামুদ্রিক শাস্ত্র অনুযায়ী করপৃষ্ঠের গঠন, আকার ও প্রকারের ভীষণ মাহাত্ম্য রয়েছে।
প্রাচীন শাস্ত্র থেকে একটি সংস্কৃত শ্লোক পাওয়া যায়। যা সমুদ্র শাস্ত্রের অতি কার্যকর ও প্রামাণ্য শ্লোক।
তা হলো -
হস্তপৃষ্ঠং সর্পফনাকারং রোম বিবর্জিতম।
শ্রেষ্ঠ মাংসলমুচ্চাংগং মণিবন্ধাকিতং শভম্।
এই ধরনের হাতের মানুষেরা হয় উত্তম গুণাবলি সম্পন্ন। সর্পাকৃতি কর পৃষ্ঠকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। মণিবন্ধ কথার অর্থ হলো আমারা যাকে কব্জি বলি সেই অংশটি বলা হয়েছে ।
অন্যান্য - এই বিষয় গুলো না জানার কারণে সফল হতে পারছেন না
আরও একটি শ্লোক
এই শ্লোকটি বর্তমান বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক জ্যোতিষী গনের ব্যাখ্যায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় |
অথ শস্তং কর পৃষ্ঠং বিস্তীর্ণ পীনমুন্নতং স্নিগ্ধং।
নিগূঢ় শিরং পরিতঃ ক্ষোণিপতেঃ ফণিফণাকারম্।।
অর্থাৎ, রাজা ও কুলীন ব্যক্তির হাতের করপৃষ্ঠ বেশ উচ্চ ও ঘন আকারের, হাতের শিরা দেখা যায় না এবং স্নিগ্ধ আভা যুক্ত। প্রাচীন শাস্ত্রে উঁচু করপৃষ্ঠকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে ।
কিন্তু শুধু উঁচু হলেই হবেনা।
তার সাথে করপৃষ্টের রঙের বিষয়ে সমুদ্রশাস্ত্রে বলা হয়েছে । একটু লক্ষ করলে দেখা যাবে প্রতিটি মানুষের হাতের করপৃষ্ঠের রং একটু আলাদা আলাদা।
সমুদ্রশাস্ত্রর পন্ডিতরা জানিয়েছেন
বিবর্ণ পুরুষং রুক্ষংরোমশং মাংসবর্জিতম্।
মণিবন্ধ সমং নিম্নং ন শ্রেষ্ঠ কর পৃষ্ঠম্।
অর্থাৎ বিবর্ণ, শুকনো ধরনের, লোম যুক্ত, ও মাংসহীন, মণিবন্ধের তুলনায় নিম্ন করপৃষ্ঠ | শুভ ফল প্রদান করে না।
অতি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ, স্কন্দ পুরাণে বর্নিত আছে, যে কোন স্ত্রীর করপৃষ্ঠ যদি পশম যুক্ত, শিরা দেখা যায়, মাংসালো না হয়, তাদের জীবন সংঘর্ষময় এবং কষ্টে জর্জরিত হয়ে থাকে ।
করপৃষ্ঠের লোম
হাতের করপৃষ্ঠে লোম থাকা কখনো শুভ নয়। করপৃষ্ঠ লোম বিহিন হলে, সেই ব্যক্তি সৌভাগ্যশালী, ঐশ্বর্যবান, যোগ্যতা সম্পন্ন ও সফল হয়। করপৃষ্ঠে যদি ছোট ধরনের, অল্প লোম থাকলে, জীবনে কিছুটা সমস্যা হলেও, ভবিষ্যৎ বেশ ভালো হয়। অল্প লোম যুক্ত ব্যক্তিরা অল্প সংঘর্ষ করে পরে যথেষ্ট সুখ ভোগ করেন। কিন্তু যদি করপৃষ্ঠে কঠিন ও লম্বা ধরনের লোম হয়ে থাকে, তা হলে সেই মানুষের জীবনে অনেক সংঘর্ষের সম্মুখীন হতে হয়। ভাগ্য দেবতা এদের সঙ্গ দিতে চান না। এঁদের ভবিষ্যৎ সম্পুর্ন কর্মের মাধ্যমে তৈরী করে নিতে হয়।হাতের শিরা
হাতের করপৃষ্ঠে শিরা দেখা যাওয়া শুভ নয়, তা যেকোনো রঙের হোক না কেন। শিরা না দেখা যাওয়া করপৃষ্ঠ শুভ বলা হয়েছে। এই অশুভ বিষয় গুলো কি কি এবং এর জন্য কি প্রতিকার করতে হবে সেকথাও বলে গেছেন প্রাচীন পণ্ডিতেরা।নিম্ন করপৃষ্ঠ
মণিবন্ধের থেকে তুলনামূলক ভাবে করপৃষ্ঠ নিচু হলে খুব অশুভ। হাতের কর পৃষ্ঠে গর্তের মতো আকার ভালো ফল দেয় না। জীবনে অর্থাভাব, উৎসাহহীনতা, সংঘর্ষ, এবং বিভিন্ন ধরনের সংকটের, ইঙ্গিত দেয়।উচ্চ করপৃষ্ঠ
করপৃষ্ঠ উচ্চ হলে ব্যাক্তি সমস্ত সুখ ভোগ করে। যাদের হাতে করপৃষ্ঠ উঁচু | তারা ভাগ্যবান, ঐশ্বর্যবান, শক্তিশালী ও জীবনে সমস্ত ধরনের আনন্দ ভোগ করেন । এরা ভাগ্যশালী, শক্তিশালী ও সন্মানের অধিকারী হয়।অন্যান্য - অর্থ উপার্জন বৃদ্ধি করতে হলে এই জিনিস গুলো ঘর থেকে বের করে দিন
সমতল করপৃষ্ঠ
যদি হাতের করপৃষ্ঠ সমতল হয় মণিবন্ধের সমানে, তবে শুভ ও অশুভ দুই রকম ফলই দেয়। যদি করপৃষ্ঠের মাঝের দিক ভিতরের দিকে বসে যায়, এটি তাহলে অর্থহানি ও রোগের ইঙ্গিত করে । তবে কোনো জায়গার করপৃষ্ঠ যদি মণিবন্ধের থেকে উঁচু হয়, তাহলে ব্যাক্তি ছোট ছোট ক্ষেত্রে লাভবান হবে ।হাতের গঠন ও করপৃষ্ঠের সম্বন্ধে আরও কিছু বৈশিষ্ট্য প্রাচীন মুনি-ঋষিরা জানিয়েছিল। তার অনেক অংশ হারিয়ে গেলেও প্রাচীন পুথিপত্র থেকে কিছু কিছু পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথি, পুরাণে এখনও এই তথ্যগুলি টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এই সমস্ত তথ্য আমার একত্রিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি । আপনাদের আশির্বাদ ও সহযোগিতা পেলে এই কাজ করার অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি হবে | আমরা আগামী দিনে আরও অনেক প্রামাণ্য তথ্য আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করব।
লেখা পড়ে ভালো লাগলে কমেন্ট করে আমাদের উৎসাহ বাড়াতে সহযোগিতা করবেন এবং শেয়ার করে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন | নমস্কার
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন